আমার দেখা অধিকাংশ কম বাজেটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নষ্ট হয়েছে কিংবা দেখতে গিয়ে শব্দ যন্ত্রনার উদ্রেক ঘটেছে তার কারণ হলো এর শব্দ ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার ত্রুটি।

বিষয়টি বলা যত সহজ করা তত কঠিন, কিন্তু কোন একটি উপায় নিশ্চয়ই আছে এ সমস্যা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনার। শব্দ ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমার ধারাবাহিক লেখার প্রথম পর্বটি কিছুটা ওভারঅল ধারণা দিয়ে শুরু করছি।

প্রথমত, কিসে সাউন্ড রেকর্ড করছি?

সেটি যদি হয় কোন কনডেনসার বা লেভেলিয়ার মাইক্রোফোন যার দ্বারা সরাসরি ক্যামেরা সাউন্ড রেকর্ড করে। সেক্ষেত্রে ডায়লগ রেকর্ড করার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাইক্রোফোনের পজিশন। হেঁটে হেঁটে ডায়লগ দেয়ার সময় যদি মাইক্রোফোন ধরা হয় মাথার উপর থেকে সেক্ষেত্রে ডায়লগের সাথে সাথে আমরা পায়ের শব্দও কিছুটা পাই, যা দৃশ্যের বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলবে। ডায়লগের তীব্রতা বেশি ধারণ করতে চাইলে বুম ধরতে হবে মুখের ঠিক নিচ থেকে যতটা সম্ভব মুখের দিক করে। কারণ ডিরেকশনাল কনডেনসার মাইক্রোফোনগুলো শব্দের উৎসের দিকে তাক করা থাকলে সবচেয়ে বেশি শব্দ উৎস থেকেই গ্রহণ করে। এছাড়াও ওমনিডিরেকশনাল বা বাই ডিরেকশনাল মাইক্রোফোনও আছে যেগুলো যথাক্রমে চারপাশ ও দুইপাশ থেকে শব্দগ্রহণ করে।


কিন্তু নয়েজ (Noise) আছে এমন যেকোন জায়গাতেই বুম দিয়ে সাউন্ড রেকর্ড করতে গেলে সে নয়েজ ধরা পড়বে। তখন ভালো শব্দে ডায়লগ রেকর্ড করার জন্য পরিচালককে শুধু কিছু অতিরিক্ত শট নিতে হতে পারে।

ধরা যাক, গ্রামের বাড়ির দরজার চৌকাঠে বসে মা মেয়ে কথা বলছে। এটি লং বা মিড লং শটে নেয় হবে। তখন সাউন্ড রেকর্ডিস্ট চাইলেই খুব কাছে গিয়ে বুম ধরতে পারেন না। আবার দূর থেকে বুম ধরলে ডায়লগের সাউন্ড লেভেল নয়েজ (পশুপাখির ডাক/বাতাসের শব্দ/ছোট ছেলেমেয়ের কান্নাকাটি ইত্যাদি) লেভেলের কাছাকাছি চলে আসবে। শুধুমাত্র একটি অতিরিক্ত ক্লোজ আপ শট নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা যায়। পরিচালক পুরো দৃশ্যটি ক্লোজ আপে ধারণ করলেন। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ডায়লগ স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী নির্ভুল ও নিখুঁত হতে হবে। শব্দ ধারক তখন মা কিংবা মেয়ের খুব কাছ থেকে বুমটি ধরলেন, অপরপক্ষে ডিএসএলআর কিংবা যেকোন ডিজিটাল মাধ্যমে যিনি দৃশ্যধারণ করছেন তিনি ডিভাইস থেকে সাউন্ড লেভেল কমিয়ে আনবেন। যার ফলে, ডায়লগের সাউন্ড লেভেল পাওয়া যাবে বেশি এবং নয়েজ অনেকাংশে শোনাই যাবে না। এরপর স্ক্রিপ্ট অনুসারে এই শটের মিড লং শট নেয়া যায় এবং সম্পাদনার সময় শুধুমাত্র অডিও ট্র্যাক বদলে দিয়ে কাঙ্খিত শটে ভালো সাউন্ড লাভ করা যায়।img_1872
এছাড়াও কম বাজেটের শর্ট ফিল্ম নির্মাণে সাউন্ড রেকর্ড করার সময় বাতাসের প্রভাব মুক্ত রাখার জন্য বড় ছাতা কিংবা বুমের উপর মোটা উলের টুপি/মাফলার জড়িয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ডায়লগ রেকর্ডিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকারী পদ্ধতি হলো আর্টিস্ট এর লাউডনেস। যিনি ডায়লগ দিবেন তার গলার স্বর উচ্চ হলে সেটি অন্যান্য নয়েজকে অনেকাংশেই প্রশমিত করে এবং কাঙ্খিত শব্দ কম কষ্টে ধারণ করা সম্ভব হয়।

লেখক: নির্মাতা ও সংগঠক

Advertisements