চিটাগং শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রতিযোগিতা পর্বের শ্রেষ্ঠ ২০টি চলচ্চিত্র নির্বাচিত করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস অনুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর দেশ ও বিদেশ থেকে জমা পড়া চলচ্চিত্রগুলো হতে প্রদর্শনীর জন্যে ২০টি চলচ্চিত্রের তালিকা বাছাই করা হয়— যা গতকাল চিটাগং শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত হয়।

দৈনিক আজাদী’র সার্বিক সহযোগিতায় ও নকশা’র উদ্যোগে পরিচালিত তরুণ চলচ্চিত্রকারদের সংগঠন ‘চিটাগং শর্ট’ প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করেছে মাসব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসবের। ২০১৬ সাল হতে শুরু হওয়া চলচ্চিত্র উৎসবের এটি তৃতীয় আয়োজন। চলচ্চিত্রকারেরা তাঁদের বানানো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার জন্যে ১লা জুন ২০১৭ থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সাকুল্যে চার মাস সময় পেয়েছেন। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরানসহ বিশ্বের সর্বমোট ২২টি দেশ থেকে শতাধিক চলচ্চিত্র জমা পড়ে এবার। জমা পড়া চলচ্চিত্র থেকে বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে ৮টি ও বিদেশী ভাষা ক্যাটাগরিতে ১২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জন্যে নির্বাচিত করে উৎসবের সিলেকশন কমিটি— যেখানে বাংলাদেশের ৭টি, ভারত ও ইরানের ৩টি করে, ফ্রান্স ও স্পেনের ২টি করে এবং অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, মেক্সিকোর ১টি করে চলচ্চিত্র রয়েছে। চলচ্চিত্রগুলো হলো: হেমন্ত সাদিকের ‘এ লেটার টু গড’, মোহাম্মদ এনামুল হক খানের ‘এ ভেগাবন্ড উইন্ড’, তামহিদ উল ইসলাম নাফির ‘এ টয় অপারেশন থিয়েটার’, হাসান শান্তর ‘আঁচল’, শারমিন দোজার ‘আর্কিটেকচার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ইন ঢাকা সিটি’, মোহাম্মদ ইয়াসিনের ‘কাম ফ্রম বি-দেশ’, নাহিদা পারভীনের ‘কনটেমপ্লেশন’, অমিত কুমার বাগচীর ‘ডিসট্যান্স’, আরাস্তু মাফাখেরির ‘হোয়াইট হাউজ’, সৈয়দ মোহাম্মদ তাবাতাবেই এর ‘লাইট সাইট’, ব্রুনো ডেলোজিলিয়ের এর ‘এ ওয়ার্ম গান’, রাধেয়া জাগাতেভার ‘আয়রনি’, ফেব্রিস বারাকের ‘এ হোল ওয়ার্ল্ড ফর এ লিটল ওয়ার্ল্ড’, আদিত্য সুহাস জামভালের ‘অ্যাবা..আর ইউ লিসেনিং?’, এমিলিয়া রুইজের ‘কাউবয়েস এন্ড ইন্ডিয়ানস’, সন্দীপ ব্যানার্জীর ‘একর্ডিয়ন’, এলক্সি পুরানেনের ‘সোয়াম্প এফেয়ার’, মারলেন রিওস ফারজাতের ‘রোজারিও’, হাসান নাজমাবাদির ‘রেড সিজন’ এবং আনা মারিয়া ফেরির ‘মিসএপ্রোপ্রিয়েশন’।

চিটাগং শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মাসব্যাপী মূল পর্বের পর্দা উঠছে ৬ জানুয়ারি ২০১৮। এইদিন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া চলচ্চিত্রকারদেরলালগালিচা সংবর্ধনা ও সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রবীণ নির্মাতা ও কলাকুশলী কর্তৃক পরিচালিত মাস্টারক্লাসের পর জমা পড়া সকল চলচ্চিত্রগুলো থেকে বাছাইকৃত সেরা ২০টি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হবে ২০ জানুয়ারি ২০১৮। উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণÑ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও হবে এইদিন। উল্লেখ্য, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ও শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।

পুরস্কার বিতরণী শেষ হলেও উৎসবের প্রদর্শনী ‘ঢাকা শো’ শিরোনামে চলবে ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০১৮ থেকে ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত। ৫দিনব্যাপী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ‘ঢাকা শো’তে প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকছে আলোচনা, মাস্টারক্লাস, সিনেআড্ডা। এছাড়াও এবারের আয়োজনের নতুন সংযোজন হিসাবে থাকছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে ‘চলচ্চিত্র প্রদর্শনী’।

Advertisements