রিলিজ দেওয়া হলো খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার তৌকির আহমেদের চলচ্চিত্র ‘হালদা’র ট্রেলার। টাইগার মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে রিলিজ দেওয়া বছরের অন্যতম আলোচিত এই ট্রেইলার মুক্তি দেওয়ার কিছুক্ষণের মাঝেই চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়ে।

সম্পূর্ণ চট্টগ্রামে চিত্রায়িত এবং চট্টগ্রামের একটি নির্দিষ্ট পেশার মানুষের জীবনযাত্রার উপর ভিত্তি করে নির্মীত হয়েছে মোশাররফ করিম, তিশা, জাহিদ হাসান, ফজলুর রহমান বাবু অভিনীত এই ছবিটি। পুরো চলচ্চিত্রের ভাষাও রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা। ট্রেইলার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ‘হালদা’র গল্প গড়ে উঠেছে হালদা নদীর পাড়ের জেলেদের জীবন যাত্রা, দস্যুতা, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, প্রতিকূলতা নিয়েই। হালদা নদী বিখ্যাত ডিমের জন্যে। মা মাছেরা বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে এখানে ডিম পাড়ে এবং এক শ্রেনীর জেলে থাকে, তাদের মূল পেশাই হলো সে ডিম সংগ্রহ করে বিক্রি করা। এই মাছের ডিম পাড়ার উপরই তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। কিন্তু নদী ভরাট, পানি দূষণ কিংবা কোন প্রাকৃতিক কারণে যদি মা-মাছ ডিম না পাড়ে, সেক্ষেত্রে কপাল পোড়ে সারা বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া জেলেদের। তাই ট্রেইলারের শুরুতেই “কই তোরা সব! মাছ ডিম ছাড়ছে রে!” ডায়লগ দিয়েই জেলেপাড়ার আনন্দকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ডিমের জন্যে হাহাকারের দৃশ্য যা অসাধারণ একটি বজ্রপাতের শটের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, এর মাধ্যমে জেলেদের জীবনের মুদ্রার বিপরীত দিকও দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গল্পে দস্যুতা আছে, প্রেমও আছে। প্রথমে দেখা যায়, জেলে মোশাররফ করিমের সাথে তিশার প্রেম, কিন্তু পরবর্তীতে যা বোঝা যায় ধনাঢ্য জাহিদ হাসানের সাথে বিয়ে হয় তিশার যেখানে মোশাররফ করিমের সাথে প্রেমটাও বারে বারে ফিরে আসে। ট্রেলারে যা বোঝা গেছে এটুকুই। হালদায় নৌকা বাইচ থাকছে, ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা থাকছে, তিন পক্ষীয় সম্পর্কে চতুর্থ আরেকটি পক্ষ থাকছে, এসব ছোট ছোট ব্যাপার দর্শকদের চলচ্চিত্রটি দেখার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে বহুগুণে। আড়াই মিনিটের ট্রেলারেই পুরো আয়োজনের একটা ঝলক দেখানো হয়েছে।

‘হালদা’র সিনেমাটোগ্রাফি যে অসাধারণ কিছু হবে তা গানের চিত্রায়ন এবং ট্রেলারেই বোঝা গেছে। বজ্রপাতের শট তো বলাই হলো, এছাড়াও অল্প আলোর কাজও বেশ ভালো হবে বলে আশা করা যায়। তবে একমাত্র অসংগতি/বেখাপ্পা যদি কিছু খুঁজতেই বলা হয়, ভাষাগত ব্যাপারটাই কানে লাগার মতো। অবশ্য, চট্টগ্রামের কঠিন ভাষা এতই কঠিন যে অভিনেতারা পুরোপুরি আয়ত্ব করে ফেললেসেটা অসম্ভবের পর্যায়েই পড়তো। তবে এই অসম্ভবকেই  হয়তো সম্ভব করেফেলেছেন ফজলুর রহমান বাবু। “বদ্দা আরা গরিব মানুষ বদ্দা, মাছ ধরি হাই। আই এত টিয়া হডে ফাইয়ুম বদ্দা?” একটি ডায়লগ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভাষার উপর কি পরিমান কাজ করেছেন তিনি। শহুরে দুর্ধর্ষ পুলিশের প্রেম, চলচ্চিত্র পরিচালকের ভালোবাসার টানাপড়েন তো হলো, বহুদিন গ্রাম্য ভালোবাসার গল্প দেখিনা বহুদিন মাটির গন্ধ পাইনা। দেখা যাক, তৌকির আহমেদ আমাদের কি উপহার দিতে পারেন। এখন কেবলই অপেক্ষা পহেলা ডিসেম্বরের।

Advertisements