প্রফেসর ত্রিলোকেশ্বর শংকু, চশমার পেছনে ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন, দুঃসাহসী, দেশপ্রেমিক এক বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক। কালজয়ী লেখক সত্যজিৎ রায়ের অনবদ্য এই সৃষ্টি এখনো বাঙালি পাঠকদের অন্যতম পছন্দের রোমাঞ্চকর চরিত্র হয়ে আছে। সত্যজিত রায়ের আরেক বিখ্যাত চরিত্র ফেলুদাকে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন জনের মাধ্যমে টিভি সিরিয়াল, চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজে দেখা গেলেও প্রফেসর শংকুকে কিন্তু কখনোই কেউ কোথাও দৃশ্যায়ন করেনি। কিন্তু প্রিয় চরিত্রটিকে বড় পর্দায় দেখার ইচ্ছে মানুষের বহুদিনের। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো যে প্রফেসর শংকুকে নিয়ে চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে কিন্তু পাকা কথা কেউই দিচ্ছিলেন না। অবশেষে ঘোষণা আসে, ‘শংকু ও এল ডোরাডো’ শিরোনামে এই সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্র আসছে যা পরিচালনা করছেন সন্দীপ রায় ও প্রযোজনা করছে শ্রী ভেংটশ ফিল্মস।

Sandip Rayপ্রফেসর শংকুর চরিত্রে অভিনয় করছেন সব্যসাচী অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় এবং নকুড়বাবুর চরিত্রে থাকবেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। “আমি চেয়েছিলাম যে, লোকটা খুব ভালো ইংরেজি বলুক। শংকুর জন্যে হয়তো অন্য কাউকে কাস্টিং করানো যেত ধৃতিদার ইনটেনসিটি, গঠন..সব মিলিয়ে কাস্টিং একদম ঠিকঠাক। ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ছাড়া কারো কথা ভাবিওনি”, কাস্টিং নিয়ে এমনটাই জানালেন পরিচালক সন্দীপ রায়।

shanku-nokurbabu-o-el-dorado‘নকুড়বাবু ও এল ডোরাডো’ বইয়ের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। কিন্তু যেহেতু এটি শংকু সিরিজের প্রথম ছবি, তাই নাম একটু পরিবর্তন করে ‘শংকু ও এল ডোরাডো’ রাখা হয়েছে। অতিন্দ্রীয় ও সম্মোহনী ক্ষমতাকে ঘিরে শুরু হলেও বইটি শেষ হয় ব্রাজিলের আমাজন জংগলের মাঝে। সোনার শহর, টেলিপ্যাথি, সম্মোহন, এল ডোরাডো, এনাকোন্ডা…সব এক সুতোয় গাঁথা রোমাঞ্চকর গল্পে নির্মিতব্য এই সিনেমার শ্যুটিং কলকাতা ছাড়াও ইউরোপ ও ব্রাজিলের বেশ কিছু লোকেশনে করা হবে।

image

শ্যুটিং ২০১৮ এর শুরুতেই শুরু করে দেওয়ার পরিকল্পনা সন্দীপ রায়ের। ‘প্রফেসর শংকু’ সায়েন্স ফিকশন হওয়ায় এই সিনেমার ভিএফএক্স-এর কাজ বেশী গুরুত্বসহকারে করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সে কারণে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ কলকাতার পাশাপাশি মুম্বাই ও চেন্নাইতেও করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০১৮ এর শেষের দিকে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Photo : Anandabazar Patrika & Hindustan Times

Advertisements